এক বছরের সমাপ্তি এবং আরেক বছরের শুরুর সন্ধিক্ষণে ভারতীয় অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫ সাল ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার একটি বছর, যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু ইতিবাচক খবরের পাশাপাশি কিছু আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জও ছিল।
কর কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি: ২০২৫ সালে ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছিল নতুন কর কাঠামো। এখন বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কোনো কর নেই, যা মধ্যবিত্তদের জন্য একটি বিশাল সুবিধা। এর পাশাপাশি, জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) কাঠামোকে আরও সরল করা হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের উপর জিএসটি হ্রাস এবং বীমা প্রিমিয়ামের উপর থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার ফলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং বীমার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্য কথায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় করের ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের উপর বোঝা অনেকটাই কমেছে।
সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতি: মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) তার রেপো রেট ১.২৫ শতাংশ কমিয়েছে। এর ফলে, গৃহঋণ এবং গাড়ির ঋণসহ সমস্ত ঋণের ইএমআই (সমান মাসিক কিস্তি) কমেছে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি সুখবর। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে—রেপো রেট কমার কারণে স্থায়ী আমানতের (এফডি) সুদের হারও কিছুটা কমেছে, যা সঞ্চয়কারীদের আয়ের উপর সামান্য প্রভাব ফেলেছে।
বিনিয়োগ বাজার: সোনা ও রুপার রেকর্ড উচ্চতা: বিনিয়োগের দিক থেকে, ২০২৫ সাল ছিল কমোডিটি বাজারের বছর। শেয়ারবাজার, অর্থাৎ সেনসেক্স এবং নিফটি, সামগ্রিকভাবে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়। কিন্তু সোনা ও রুপার দাম অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। সোনার দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং রুপার দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। যারা মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের জন্য এটি ছিল একটি সোনালী বছর।
আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ: এই মুহূর্তে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি। আমদানির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের উপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সাথে, এইচ-১বি ভিসার জন্য কঠোর নিয়মকানুন এবং ফি বৃদ্ধির কারণে বিদেশে চাকরির সুযোগ সন্ধানকারী ভারতীয় পেশাদারদের জন্য বাধা তৈরি হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও, ভারত তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ২০২৬ সালের লক্ষ্যের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে উৎপাদন খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে। একই সাথে, পরিষেবা খাতে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যে অবকাঠামোগত ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করা হচ্ছে।
যুদ্ধ বা কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হলে, আশা করা যায় যে ২০২৬ সাল ভারতীয় অর্থনীতির জন্য আরও উজ্জ্বল একটি বছর হবে। আমরা সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতি এবং আমাদের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন