ভারতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিমা-সংক্রান্ত টাকা দাবি না-হওয়া অবস্থায় পড়ে থাকে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিমার টাকা এখনও বিমা সংস্থাগুলির কাছে অদাবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। এর প্রধান কারণ হল—পলিসিধারকের মৃত্যু হলে নমিনি বা উত্তরাধিকারীরা অনেক সময় বিমা সুবিধার বিষয়ে জানেন না, পুরনো পলিসির কথা ভুলে যাওয়া, অথবা বিমা সংস্থার পক্ষ থেকে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারা।
বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-এর মতে, কোনও বিমা সংস্থা যে অর্থ গ্রাহককে পরিশোধ করার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত তারিখের ১২ মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও তা পরিশোধ করা যায়নি, সেই অর্থকে অদাবিকৃত বিমা অর্থ বলা হয়। এই টাকার মধ্যে সুদও অন্তর্ভুক্ত থাকে। মৃত্যু দাবি, মেয়াদপূর্তির অর্থ, সারভাইভাল বেনিফিট, স্বাস্থ্য বিমার ক্ষতিপূরণ, পলিসি সারেন্ডার বা বন্ধ করা, অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ফেরত—এই সব ক্ষেত্র থেকেই অদাবিকৃত টাকা তৈরি হতে পারে।
এই সমস্যার সমাধানে IRDAI চালু করেছে ‘বিমা ভরসা’ পোর্টাল। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি তাঁর নাম, জন্মতারিখ, প্যান বা আধার নম্বর ব্যবহার করে সারা ভারতের সমস্ত জীবন ও সাধারণ বিমা সংস্থার মধ্যে নিজের বা পরিবারের নামে কোনও অদাবিকৃত বিমা টাকা রয়েছে কি না, তা সহজেই খুঁজে দেখতে পারেন। মিল পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় KYC নথি ও ব্যাঙ্কের বিবরণ জমা দিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার কাছ থেকে সেই টাকা দাবি করা যায়।
অদাবিকৃত বিমা টাকা দাবি করতে হলে পলিসির বিবরণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পরিচয়পত্র এবং নির্ধারিত দাবি ফর্ম জমা দিতে হয়। যদি নমিনি বা আইনগত উত্তরাধিকারী দাবি করেন, তবে সম্পর্কের প্রমাণ, মৃত্যু সনদ এবং কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সনদও প্রয়োজন হয়। পলিসির মূল নথি হারিয়ে গেলে বিমা সংস্থা ক্ষতিপূরণ বন্ড চাইতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যু সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়, কারণ বিমা সংস্থাকে নিশ্চিত হতে হয় যে দাবিদারই প্রকৃত অধিকারী।
সব নথি সঠিকভাবে যাচাইয়ের পর বিমা সংস্থা অদাবিকৃত অর্থ সরাসরি দাবিদারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। তবে যদি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনও বিমা অর্থ অদাবিকৃত থাকে, তাহলে সেই টাকা ভারত সরকারের সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার ফান্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।
এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পলিসিধারকদের উচিত নিয়মিতভাবে নিজেদের ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর, নমিনি এবং ব্যাঙ্কের তথ্য বিমা সংস্থার কাছে আপডেট রাখা। আধার ও প্যানের সঙ্গে পলিসি যুক্ত করা, SMS ও ই-মেল অ্যালার্ট চালু রাখা এবং সমস্ত বিমা নথি এক জায়গায়—ডিজিটাল বা ই-ইনসিওরেন্স অ্যাকাউন্ট কিংবা ডিজিলকারে সংরক্ষণ করা—ভবিষ্যতে পরিবারকে এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।