ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—এটি মূলত 'গো বলয়' (Hindi Heartland) এবং পশ্চিম ভারতের একটি দল, যার ভিত্তি হলো হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ও মারওয়াড়ি সম্প্রদায়ের সমর্থন। একসময় মনে করা হত, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বাইরে বিশেষত পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে তাদের বিস্তার প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু গত কয়েক বছরে চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জয়যাত্রা
অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপি পূর্ব ভারতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই এখন বিজেপি ক্ষমতায়। পশ্চিমবঙ্গেও তারা বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি এখন এক অনস্বীকার্য শক্তি।
দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বৃদ্ধি:
এর পরের যুক্তি ছিল—দক্ষিণ ভারত তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত ও সচেতন, তাই সেখানে হিন্দুত্ববাদী দলের প্রভাব খাটবে না। কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বিজেপির জন্য সবচেয়ে কঠিন দুই রাজ্য—তামিলনাড়ু ও কেরালা—এই অঞ্চলগুলিতেও তাদের জায়গা নেই।
তবে এই ধারণাও ধীরে ধীরে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে।
কর্ণাটকে বিজেপি বহু আগেই অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও তাদের ভোটের হার ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে কেরালা থেকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কেবল কংগ্রেস ও সিপিএম-এর মধ্যেই ক্ষমতা বদল হয়েছে। সম্প্রতি কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি একটি বৃহৎ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ঘটনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, উচ্চ সাক্ষরতার হার আর বিজেপির বিস্তারের পথে বড় বাধা নয়।
নতুন উপসংহার
বিজেপির এই ক্রমাগত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিস্তার একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের ক্ষমতাকে কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা একটি বিশেষ সামাজিক স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার দিন শেষ। ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি এখন এমন এক দল, যার প্রভাব দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায় অনুভূত হচ্ছে। তাদের কৌশল, সংগঠন এবং সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন