ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির শহরে আগমন, ভক্তদের জন্য এর চেয়ে বড় স্বপ্ন আর কী হতে পারে! কিন্তু সম্প্রতি কলকাতায় মেসির আগমন ঘিরে যে ঘটনা ঘটল, তা উৎসবের পরিবর্তে জন্ম দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার। হায়দ্রাবাদে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে মেসি এক সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, সেখানে কলকাতার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
😡 অব্যবস্থা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ
পেলে বা মারাদোনার আগের কলকাতা সফরে এমন অব্যবস্থা দেখা যায়নি। কিন্তু এবার হাজার হাজার টাকা খরচ করে, মাসের পর মাস ধরে জমানো অর্থ দিয়ে টিকিট কেটেও সাধারণ মানুষ তাদের স্বপ্নের নায়ককে দেখতে পেলেন না। স্টেডিয়ামে মেসি মাত্র ২০ মিনিটের মতো ছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে ঘিরে সর্বক্ষণই ছিল নেতা-মন্ত্রী, আমলা, অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের ভিড়। সাধারণ দর্শক শুধু কালো মাথার ভিড় দেখেছেন, মেসিকে এক ঝলক দেখাও তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি।
এখানেই সব থেকে বড় প্রশ্ন: উদ্যোক্তারা যেখানে মিট অ্যান্ড গ্রিটের জন্য সাড়ে নয় লক্ষ টাকা ধার্য করেছিলেন, সেখানে যদি নেতা-মন্ত্রী, অভিনেতা অভিনেত্রীদের পরিবারেরও মেসির সাথে সেলফি তোলার এতই ইচ্ছা থাকে, তবে তাঁরা সেই হোটেলে গিয়ে সেই বিপুল অর্থ দিয়ে ছবি তুলতে পারতেন। কেন তাঁরা মাঠে প্রবেশ করে দর্শকদের দেখতে না দিয়ে সেখানে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন? ভিভিআইপিদের এই বাড়াবাড়ি সাধারণ দর্শকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এই বাণিজ্যিকীকরণ, অব্যবস্থা ও স্বজনপোষণের কারণে সাধারণ মানুষের আবেগ সম্পূর্ণভাবে হতাশায় পরিণত হলো। দশ-বারো হাজার টাকার টিকিট কেটেও যারা তাঁদের প্রিয় তারকাকে দেখতে পেলেন না, তাঁদের রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক। মেসি মাঠ ছাড়ার পরপরই সেই ক্ষোভ উন্মত্ত রূপে ফেটে পড়ে।
📉 কলকাতার ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ
এই ঘটনা কলকাতার ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এমনিতেই মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদের মতো শহরগুলিতে এখন বড় আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান বেশি আয়োজিত হয়। কলকাতায় ইদানীং এই ধরনের বড় অনুষ্ঠান কম হচ্ছে। মেসির অনুষ্ঠানে যা ঘটল, তাতে ভবিষ্যতে কলকাতায় এমন আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা আরও কমে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনা আমাদের রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় আমরা কি বড় অনুষ্ঠান সামাল দিতে পিছিয়ে পড়ছি? নেতাতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপোষণ কি সর্বত্রই প্রকট? শুধু আয়োজক সংস্থার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে রাজ্য সরকার তার দায় এড়াতে পারে না। এই ব্যর্থতার মূল কারণগুলি খুঁজে বের করে তার সমাধান করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং কলকাতার হারানো গৌরব ফিরে আসে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন