প্রাকৃতিক বিপর্যয় রাজনৈতিক কচ কচানি এবং হিংস্রতা : :-
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল—জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ার—সম্প্রতি ভয়াবহ প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তা, বাড়ি হারিয়ে বিপদের মুখে পড়েছে।
এই মানবিক বিপর্যয়ের সময় বিজেপি এমপি খাগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বন্যা-দুর্গতদের সহযোগিতা করতে গিয়ে জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা গ্রামে হামলার শিকার হন। গাড়িতে পাথর ঢিল ছোঁড়া হয়, দুর্বৃত্তদের আক্রমণে এমপি এমএলএ কে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
আরেক বিজেপি এমএলএ মনোজ ওরাংকে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম এলাকায় বন্যা-দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় আক্রমণ করা হয়
অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা কলকাতায় উৎসবের মঞ্চে মেতে উঠেছেন, যা বন্যার কষ্টে নিস্তরঙ্গ মানুষের প্রতি একটি বড় অসংবেদনশীলতার প্রকাশ। এসময়ে শাসক দলের উৎসবমুখর মনোভাব জনমনে হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি বলে মন্তব্য করেছেন—মানুষ বিপদে, রাজ্য প্রশাসন হিংসা রুখতে ব্যার্থ।
যদি বিরোধী দলের নেতা, বিধায়ক বা এমপি বারবার আক্রমণের মুখে পড়েন, তা গণতন্ত্রের জন্য স্পষ্টতই অশনি সংকেত এবং খুবই উদ্বেগজনক বিষয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীর নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের অধিকার আছে—যদি রাজনৈতিক হিংসা, হামলা বা ভয়-ভীতির সংস্কৃতি নিত্যদিন ঘটে, তাহলে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়।
বিরোধী রাজনীতিক কর্মী ও নেতাদের আক্রমণ লাগাতার ঘটলে, জনগণের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে সন্দেহ জন্মায়।
বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক হিংসার জন্য আলোচিত; এরকম পুনঃপুন আক্রমণের ঘটনা রাজ্যের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে অবিলম্বে প্রশাসনিক কড়াকড়ি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা, সকল দলের সমান সুযোগ আর মত প্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি—যদি এসব বারবার আক্রমণে ক্ষুণ্ন হয়, সত্যিই গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
শাসক দলের নার্ভাস অবস্থা :-
রাজ্যের যিনি প্রধান তিনি বলে বসলেন সিকিম থেকে ভুটান থেকে জল ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে দক্ষিণবঙ্গে বন্যার সময় তিনি বলেছিলেন ডিভিসি থেকে জল ছেড়ে দিচ্ছে, ঝাড়খন্ড থেকে জল ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কি কখনো ইচ্ছে করে জল ঢুকিয়ে দেয়, যেখানে বাঁধ থাকে, বাঁধের যতক্ষণ জল ধরার ক্ষমতা ততক্ষণ ধরে রাখে, যখন ক্ষমতার বাইরে তখন জল ছাড়তে হয়, না হলে তো বাঁধ বলে আর কিছু থাকবে না।
শাসক দলের এটা দেখা উচিত ছিল যে পাহাড়ে যেখানে সেখানে রিসোর্ট হয়ে যাচ্ছে হোটেল হয়ে যাচ্ছে ,হোমস্টে হয়ে যাচ্ছে ,তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। ডুয়ার্সের জঙ্গলের গাছ কাটা হচ্ছে, সেগুলো দেখা উচিত ছিল। এখানকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সমস্ত প্রাকৃতিক জিনিসগুলোর উপর নজরদারি করা দরকার ছিল সেগুলো কি তারা সঠিক ভাবে করেছিল।
এই সময়ে হিংসার ঘটনাগুলো থেকে পরিষ্কার যে, শাসক দল নিজের জোরদার অবস্থান হারানোর ভয় থেকেই বিরোধীদের ওপর আক্রমণ বাড়াচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মঞ্চ দমিয়ে রাখার জন্য তারা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হামলার পর তারা কৌশলে অভিযোগ তুলেছে, ‘বিরোধীরা আমাদের না জানিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল’
আবার কখনো বলছে জনরোষ। যেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে, আধা সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রয়েছে, সেখানে আদৌ কি কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সাংসদ বিধায়ককে মারা সম্ভব ? সাধারণ মানুষ কখনোই ওরকম ভাবে কাউকে মারতে ছুটবে না ওই সময়ে এবং ওই সব হারানোর পরিবেশে। যেসব দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত , তারাই তাদের জমি হারানোর ভয় থেকে এই ধরনের হিংসার প্রদর্শন করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, এমন ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট হামলার প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ আক্রমণকারী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনের শাসন ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, এটা শাসক দলের নাকের ডগায় শাসক দলের লোকের দারা সংঘটিত হিংসা, তাই তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অনিচ্ছা স্পষ্ট।
এইসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র গভীর সংকটে পড়েছে—যেখানে বিরোধী দলের নেতাদের নিরাপত্তা সর্বাত্মক হুমকির মুখে। যেখানে মানবিক দুর্যোগকেও রাজনীতির আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, সেখানে আর কি আশা করা যায় । নির্বাচন আসন্ন, তবে এই পরিবেশে মানুষের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
Rajesh Dasgupta
#প্রাকৃতিকবিপর্যয়
#বন্যাদুর্গত
#পাহাড়ধস
#উত্তরবঙ্গসংকট
#মানবিকদুর্যোগ
#FloodReliefWB
#NaturalDisasterWB
#রাজনৈতিকহিংসা
#DemocracyUnderThreat
#গণতন্ত্রসংকটে
#PoliticalViolenceWB
#OppositionAttack
#lawandorderwb
#রাজনৈতিকদুর্বৃত্ত
#শাসকদলেরঅসংবেদনশীলতা
#AdminFailureWB
#রাজনীতিতেহিংসা
#ElectionFearPolitics
#PoliticalSuppressionWB
#WBPolitics
#WestBengalNews
#BanglaNewsUpdate
#SaveDemocracyWB
#HumanRightsWB
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন